কলকাতা:
বাংলা স্বাধীন সিনেমার সাম্প্রতিক ইতিহাসে দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস একটি ব্যতিক্রমী নাম। মাত্র কয়েকজন ফিল্ম স্টুডেন্টের উদ্যোগে তৈরি এই ছবি শুধু প্রশংসাই পায়নি, বাণিজ্যিকভাবেও সাফল্য দেখিয়েছে। এবার সেই ছবির নির্মাণযাত্রা, লড়াই ও মুক্তির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত হতে চলেছে একটি বই ।
এই বইটি মূলত তুলে ধরবে—কীভাবে সীমিত বাজেট, অগণিত বাধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মধ্য দিয়ে একদল তরুণ নির্মাতা একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের স্বাধীন ছবি বানিয়ে তা প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পেরেছেন।
দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস ছবির ভাবনা জন্ম নেয় ২০২১ সালে, যখন পরিচালক তখনও একজন ফিল্ম স্টুডেন্ট। বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী এবং একই চিন্তার কয়েকজন তরুণ মিলে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ছবির দল। যা শুরু হয়েছিল একটি ছোট আকারের প্রজেক্ট হিসেবে, সেটাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপ নেয় একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ছবিতে।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে ছবির কাজ হয়—টাকা জোগাড়, শুটিং, পোস্ট-প্রোডাকশন, সবই চলে নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে। বড় প্রযোজনা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই ছবিটি সম্পূর্ণ করা হয়।
ছবির সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল মুক্তি। নির্ধারিত সময়ে ছবি মুক্তি পায়নি। নানা প্রাতিষ্ঠানিক আপত্তি, টেকনিক্যাল জটিলতা এবং প্রশাসনিক সমস্যায় আটকে যায় রিলিজ। এক পর্যায়ে ছবির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।
কিন্তু নির্মাতারা পিছু হটেননি। আলোচনা, সমাধান এবং ধৈর্যের মাধ্যমে সব জট ছাড়িয়ে অবশেষে বড়পর্দায় মুক্তি পায় দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস। এই লড়াইই ছবিটিকে শুধু একটি সিনেমা নয়, একটি দৃষ্টান্তে পরিণত করে।
ছবিটি ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়। বিশেষ করে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া নির্মাতাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। সমালোচকরা ছবির নির্মাণভাষা, চিত্রনাট্য ও সাহসী বিষয়বস্তুর প্রশংসা করেন।
প্রকাশিত হতে চলা এই বইটি ব্যবহারিক গাইড হিসেবেও থেকে যাবে —যাঁরা স্বাধীনভাবে ছবি বানাতে চান, তাঁদের জন্য।

বইটিতে থাকছে—
ছবির আইডিয়া থেকে শুটিং পর্যন্ত সম্পূর্ণ যাত্রাপথ
কম বাজেটে প্রোডাকশন পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট
স্বাধীন ছবির ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ
প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতা
মার্কেটিং ও দর্শক তৈরির কৌশল
সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো—মূল চিত্রনাট্যের অংশবিশেষ এবং স্টোরিবোর্ডের ছবি। কোন দৃশ্য কীভাবে কল্পনা করা হয়েছিল, ক্যামেরা মুভমেন্ট, ফ্রেমিং—সবই নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন প্রজন্মের জন্য একটি দলিল
এই বই শুধুই একটি ছবির গল্প নয়। এটি প্রমাণ করে, আজকের দিনে ফিল্ম স্টুডেন্ট বা নতুন নির্মাতারাও যদি দৃঢ় থাকেন, তাহলে বড় প্রযোজনা ছাড়াই দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস এবং তার উপর লেখা এই বই—দুটোই ভবিষ্যতের স্বাধীন বাংলা সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।

1 thought on “স্বাধীন ছবির নেপথ্য গল্প: দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস ছবির নির্মাণ নিয়ে প্রকাশিত হতে চলেছে বই।”