RAJ_5829
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: –  কলকাতার ধমনীতে বইছে শিল্প আর সংস্কৃতির ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যখন আধুনিকতার চোখধাঁধানো কারুকাজ মিশে যায়, তখন সৃষ্টি হয় এক অনন্য ইতিহাস। গত ২৬শে এপ্রিল, কলকাতার রাজারহাটে অবস্থিত অভিজাত হোটেল ‘ফেয়ারফিল্ড বাই ম্যারিয়ট’-এ ঠিক তেমনই এক ইতিহাস রচিত হলো। উপলক্ষ ছিল ‘ফ্যাশনিয়া ২০২৬’ (সিজন ১)-এর বর্ণাঢ্য রানওয়ে শোকেস ও প্রেস মিট। পি৩ লয়াল প্রোডাকশন (P3 Loyal Production) এবং সিলভারস্ক্রিন প্রোডাকশন হাউসের যৌথ প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই সন্ধ্যাটি কেবল ফ্যাশন শো ছিল না, বরং তা ছিল সৃজনশীলতার এক মহোৎসব।

নক্ষত্রখচিত সন্ধ্যা ও গ্ল্যামারের বিচ্ছুরণ
সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই ফেয়ারফিল্ড হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুম সেজে উঠেছিল মায়াবী আলোয়। রেড কার্পেটে তখন টলিউডের তাবড় তারকাদের মেলা। টলিউড সুপারস্টার আবির চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে গ্ল্যামার কুইন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়,  এবং আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। এছাড়াও টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় সহ টিনসেল টাউনের পরিচিত মুখেরা র‍্যাম্পের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বহুগুণ।

অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল ‘আনভেইল দ্য ইন্সপিরেশন’ (Unveil the Inspiration)। আয়োজকদের দাবি, এই মঞ্চ কেবল পোশাক প্রদর্শনের নয়, বরং নতুন প্রজন্মের ডিজাইনারদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার মাধ্যম।

ফ্যাশনের নতুন দিগন্ত: ট্র্যাডিশনাল থেকে ফিউশন
র‍্যাম্পে যখন মিউজিকের বিট শুরু হলো, তখন দর্শকদের চোখের সামনে একে একে ফুটে উঠল শিল্পের কারুকাজ। ‘ফ্যাশনিয়া ২০২৬’-এর প্রথম সিজনে ডিজাইনাররা গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতীয় বুননশৈলী এবং পাশ্চাত্য কাটিংয়ের মিশ্রণকে।

এথনিক কালেকশন: লিনেন, সিল্ক এবং জামদানির ওপর কাজ করা লেহেঙ্গা ও শাড়িতে মডেলরা যখন হাঁটছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল বাংলার প্রাচীন কুটির শিল্পই যেন এক নতুন রূপে পুনর্জন্ম নিয়েছে।

ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন: তরুণ প্রজন্মের রুচি মাথায় রেখে প্রদর্শিত হয়েছে বোল্ড কালার প্যালেট এবং জ্যামিতিক নকশার ড্রেস। গাউন থেকে শুরু করে শার্প কাট স্যুট—সবকিছুতেই ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া।

নেপথ্যের কারিগর ও আয়োজকদের ভাবনা
একটি সফল ইভেন্টের পেছনে থাকে কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি। পি৩ লয়াল প্রোডাকশনের নিখুঁত কিউরেশন এবং সিলভারস্ক্রিন প্রোডাকশন হাউসের দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা এই শো-টিকে পেশাদারিত্বের এক অনন্য স্তরে নিয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, সিলভারস্ক্রিন প্রোডাকশন হাউস বিগত দেড় দশকে ৫০০-র বেশি চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত থেকে বিনোদন জগতে নিজেদের এক শক্ত ভিত তৈরি করেছে।

আয়োজক কমিটির তরফে রাখি দে এবং শঙ্কর দে অত্যন্ত আশাবাদী এই উদ্যোগ নিয়ে। তাঁদের মতে, “কলকাতা সবসময়ই ফ্যাশন সচেতন। আমরা চেয়েছিলাম এমন একটা মঞ্চ তৈরি করতে যেখানে বাণিজ্য এবং শিল্প হাত ধরাধরি করে চলবে। সিজন ১-এর এই সাফল্য আমাদের সিজন ২-এর জন্য বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।”

কলকাতা ও ফ্যাশন দুনিয়ার ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফ্যাশনিয়া ২০২৬’-এর মতো আয়োজন কলকাতার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পিআর, ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং বিভাগের সুসংগঠিত কাজের ফলে এই অনুষ্ঠানটি কেবল স্থানীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পৌঁছে গিয়েছে সারা বিশ্বের ফ্যাশন প্রেমীদের কাছে।

তিলোত্তমার এই গ্ল্যামারাস সন্ধ্যায় প্রমাণিত হলো যে, মুম্বাই বা প্যারিসের থেকে পিছিয়ে নেই কলকাতা। এখানকার ডিজাইনারদের ভাবনা এবং মডেলদের আত্মবিশ্বাস আন্তর্জাতিক মানের। রানওয়েতে যখন তারকারা শো-স্টপার হিসেবে নামলেন, তখন পুরো হলঘর করতালিতে ফেটে পড়ল। সেই তালি যেন ছিল আগামীর নতুন ফ্যাশন বিপ্লবের আবাহন।

‘ফ্যাশনিয়া ২০২৬’ (সিজন ১) কেবল একটি ইভেন্ট হিসেবে শেষ হয়নি, বরং তা রেখে গিয়েছে একগুচ্ছ নতুন প্রশ্ন এবং সম্ভাবনা। আগামীতে কি কলকাতা হয়ে উঠবে এশিয়ান ফ্যাশনের মূল কেন্দ্র? উত্তর যা-ই হোক না কেন, ২৬শে এপ্রিলের সেই মায়াবী সন্ধ্যা কলকাতার মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গেল। সিজন ২-এ কী নতুন চমক অপেক্ষা করছে, এখন সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছেন শহরের ফ্যাশনিস্তারা।

বক্স আইটেম: এক নজরে ‘ফ্যাশনিয়া ২০২৬’

ভেন্যু: ফেয়ারফিল্ড বাই ম্যারিয়ট, কলকাতা।

প্রধান অংশীদার: পি৩ লয়াল প্রোডাকশন ও সিলভারস্ক্রিন প্রোডাকশন হাউস।

ড্রেস বুলবুল পাঞ্জাবি সেন্টার

তারকা উপস্থিতি: আবির চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *