-তিনদিনের সম্মেলনে ভারতে ও বিদেশে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রাক্তনীদের নেতৃত্বে কতখানি প্রভাব ফেলা যাচ্ছে তা চিহ্নিত হল-
কলকাতা, ১০ই জানুয়ারি ২০২৬: সিন্ধিয়া স্কুল ওল্ড বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন (SOBA) তার প্রেসিডেন্টস কনক্লেভে আহ্বান করেছিল কলকাতায় ৯-১১ জানুয়ারি ২০২৬। সারা ভারত এবং বিদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র প্রতিনিধিরা এতে একত্রিত হয়েছিলেন। এই কনক্লেভ SOBA-র ৬৬ বছরের যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধানের প্রতি এক যৌথ দায়বদ্ধতা এবং ভারতের সবচেয়ে ঐতিহ্যশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিকে শক্তিশালী করতে প্রাক্তনীদের নেতৃত্বের দীর্ঘকালীন ভূমিকা আরও একবার প্রমাণ করল।
SOBA হল ১২৮ বছর বয়সী দ্য সিন্ধিয়া স্কুলের অনুমোদিত প্রাক্তনী সংস্থা। ভারত জুড়ে ৩৩টি শাখা ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ছড়িয়ে থাকা ৭,০০০-এর বেশি নথিভুক্ত প্রাক্তনী নিয়ে SOBA হল দেশের স্কুল প্রাক্তনী নেটওয়ার্কগুলির মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ও পরিষেবাভিত্তিক নেটওয়ার্কের অন্যতম।
কনক্লেভের আলোচনায় জোর দেওয়া হয়েছিল ভারতের শিক্ষানীতি, আগামীদিনের নেতা তৈরি করার পাশাপাশি স্কুলটির অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করার মত দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের উপর। প্যানেল ঘোষণা করেছে যে SOBA দ্য সিন্ধিয়া স্কুলে একটি প্ল্যানেটারিয়াম গড়ে তোলার যুগান্তকারী উদ্যোগে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে। বরাবরই এই সংস্থা পরীক্ষানির্ভর এবং অনুসন্ধিৎসা দ্বারা চালিত ও বিজ্ঞাননির্ভর শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ থেকেছে। এই উদ্যোগও তারই প্রমাণ।
এই উপলক্ষে অজয় সিং, প্রিন্সিপাল, দ্য সিন্ধিয়া স্কুল, বললেন “সিন্ধিয়া স্কুলের শক্তি হল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা। আমাদের প্রাক্তনীরা স্কুলের বৃদ্ধির উপরে গভীরভাবে আগ্রহী এবং SOBA থেকে তৈরি হওয়া উদ্যোগগুলি এক সামগ্রিক, ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষার প্রতি সকলের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। এই ধরনের আদানপ্রদান স্কুল ও প্রাক্তনীদের মধ্যে দীর্ঘকালীন সম্পর্ককে আরও জোরদার করে।”
মিতুল দীক্ষিত, প্রেসিডেন্ট, SOBA, বললেন “SOBA-র শক্তির উৎস তার শাখাগুলোর যৌথ নেতৃত্ব এবং সারা পৃথিবীর সিন্ধিয়ানদের যৌথ দায়িত্ববোধ। আমরা শুধু নস্ট্যালজিয়ায় আটকে থাকি না। আমরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সামাজিক প্রভাব তৈরি করা এবং দ্য সিন্ধিয়া স্কুলকে সদর্থক, সুস্থায়ী ও তার মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাহায্য করার ব্যাপারে দায়বদ্ধ।”
শহরে এই কনক্লেভের আয়োজন করে অরুণকুমার ভগত, প্রেসিডেন্ট, SOBA কলকাতা চ্যাপ্টার, বললেন “প্রেসিডেন্টস কনক্লেভ সংগঠন হিসাবে SOBA-র গভীরতা ও পরিণতিবোধের পরিচয়। এটা কথাবার্তা, পাশে দাঁড়ানো এবং যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেটা নিশ্চিত করে যে সমস্ত শাখা জুড়ে প্রাক্তনীদের প্রয়াস প্রভাবশালী ও প্রয়োজনভিত্তিক।”

দর্শন দুধোরিয়া, SOBA সদস্য, দ্য সিন্ধিয়া স্কুলের প্রাক্তন হেডবয় এবং সিইও, ইন্ডিয়ান সিল্ক হাউস এজেন্সিজ, বললেন “দ্য সিন্ধিয়া স্কুল এমন সব মূল্যবোধ তৈরি করে যেগুলো ক্লাসরুম ছেড়ে যাওয়ার বহুকাল পরেও আপনার মধ্যে থেকে যায়। আমাদের অনেকেরই ভাবনাচিন্তা, নেতৃত্বের ধরন আর সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার মন তৈরি করেছে স্কুল। এই প্রেসিডেন্টস কনক্লেভ মনে করিয়ে দেয় যে প্রাক্তনীরা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কতটা জোরালোভাবে এখনো যুক্ত এবং তার ভবিষ্যৎ গড়তে অবদান রাখার প্রতি দায়বদ্ধ।”
এই কনক্লেভে স্কুলের বিখ্যাত প্রাক্তনীদের জন্য গর্বও প্রকাশ করা হয়। তাঁদের মধ্যে জনজীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিক্রম মিস্ত্রি, ফরেন সেক্রেটারি, ভারত সরকার; রাজেন্দ্র এস পাওয়ার, পদ্মভূষণ বিজেতা এবং NIIT লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান; অশোক গজপতি রাজু এবং সিনেমা নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ।
এইচ এইচ মহারাজা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পরিচালনায় দ্য সিন্ধিয়া স্কুল নীতিবোধসম্পন্ন, আন্তর্জাতিক চিন্তাধারার নাগরিক তৈরি করে চলেছে। ঐতিহাসিক গোয়ালিয়র কেল্লার মধ্যে অবস্থিত এই স্কুলে আছে স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ ঐতিহ্য। যেমন অস্তাচল, অর্থাৎ প্রতিদিন ধ্যান ও আত্মসমীক্ষার অনুশীলন। এটি এই পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং সিন্ধিয়াদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। নিজের আগে অন্যের সেবা করার ভাবনা সিন্ধিয়া স্কুল ওল্ড বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগগুলিতে স্পষ্ট। যেমন মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া, চিকিৎসা সংক্রান্ত ও শিক্ষাগত সাহায্য জোগানো, রক্তদান শিবির, চক্ষু পরীক্ষা শিবির, রেল স্টেশনে হুইলচেয়ার প্রদান এবং জাতীয় স্তরে অঙ্গদানের পক্ষে কথা বলা।
সুস্থায়ী আদানপ্রদান এবং প্রাক্তনীদের দায়িত্বপূর্ণ নেতৃত্বের মাধ্যমে SOBA, দ্য সিন্ধিয়া স্কুলের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানিয়ে চলেছে শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে।
