বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
বাংলা চলচ্চিত্রের পাতায় যুক্ত হতে চলেছে আরও এক রোমাঞ্চকর ও জাদুকরী অধ্যায়। স্টোরি ও কল্পনার মিশেলে নির্মিত হতে যাওয়া পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের নতুন বাংলা ছবি ‘যাদুকর সত্যাচরণ’-এর শুভ মহরৎ সম্প্রতি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো। কলকাতার এক অভিজাত প্রেক্ষাপটে স্টারমার্ক ক্রিয়েটিভ প্রোডাকশনের ব্যানারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছবিটির শুভ সূচনা উদযাপিত হয়। একই সঙ্গে উন্মোচিত হয়েছে ছবিটির প্রথম টিজার পোস্টার, যা প্রকাশ্যে আসতেই সিনেপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল উৎসুক্য ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন জগতে রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ছবিতে পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের একটি নিজস্ব স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এ বার তিনি দর্শকদের উপহার দিতে চলেছেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নতুন ধরনের জাদুকরী পৃথিবী। ‘যাদুকর সত্যাচরণ’ এমন একটি ছবি, যা দর্শকদের নিয়ে যাবে ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার এবং ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজম বা জাদুকরী বাস্তবতার এক অপূর্ব জগতে। এই ছবির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন এক রহস্যময় যাদুকর, যার নাম সত্যাচরণ। আর এই কেন্দ্রীয় ও নামভূমিকায় অভিনয় করছেন বাংলা সিনেমার মহাতারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

মহরৎ অনুষ্ঠানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ছবির অন্যান্য বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীরা। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে ঋত্বিক চক্রবর্তী, সব্যসাচী চৌধুরী এবং ইশা সাহাকে। বর্তমান বাংলা সিনেমায় এটি একটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও আকর্ষণীয় কাস্টিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পার্থ সারথি মজুমদার এবং পল্লবী প্রসাদের যৌথ প্রযোজনা ও উপস্থাপনায় এই মেগা প্রজেক্টটি রূপ পেতে চলেছে। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছবিটিতে থাকবে বিশাল ক্যানভাস, আন্তর্জাতিক মানের চাক্ষুষ দৃশ্য এবং এক গভীর আবেগপূর্ণ গল্পের অভিজ্ঞতা।

ছবির কেন্দ্রবিন্দু ‘সত্যাচরণ’ চরিত্রটিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। তিনি শুধু এক সাধারণ জাদুশিল্পী নন; তাঁর ব্যক্তিত্বে রয়েছে এক অদ্ভুত আকর্ষণ, তীব্র পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং শিশুসুলভ কৌতূহল। কিন্তু এই বাহ্যিক মেজাজের নেপথ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সত্য উদ্ঘাটনের এক নিখুঁত ও ধারালো সহজাত প্রবৃত্তি। জীবনের বৈচিত্র্য ও রহস্যের মধ্য দিয়ে তিনি কীভাবে সাধারণ মানুষ ও সত্যকে খুঁজে বের করেন, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হবে ছবির গল্পে।

মহরৎ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ছবিটির টিজার পোস্টার উন্মোচন। প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ছবির পরিবেশ ও ক্যানভাস কতটা বিশাল হতে চলেছে। টিজার পোস্টারে দেখা যাচ্ছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে এক গাঢ় লাল রঙের কেপ বা আলখাল্লায়। তাঁর সামনে ও চারপাশে বিস্তৃত এক কুয়াশাচ্ছন্ন ও গাঢ় রহস্যে ঘেরা পরিবেশ—যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন মন্দিরের চূড়া, নদীর ঘাটে বাঁধা তরী, জ্বলন্ত আগুনের শিখা এবং এক অপরূপ পরাবাস্তব আলো-ছায়ার খেলা। একই সঙ্গে পুরো প্রকৃতির ওপর ভেসে উঠছে এক বিশালাকার এবং রহস্যময় উপস্থিতি, যা প্রথম দেখাতেই গা ছমছমে রোমাঞ্চের অভিজ্ঞতা দেয়।
পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের মতে, এই প্রথম টিজার পোস্টারের মাধ্যমে ছবির মেজাজ ও ভিজ্যুয়াল টোন সেট করা হলো। তবে গল্প এবং মূল প্রেক্ষাপটকে এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না; সেটি রাখা হয়েছে পরম গোপনীয়তায়। বাংলা চলচ্চিত্রে রূপকথা, আধুনিক অ্যাডভেঞ্চার এবং প্রাচীন বাংলার লোকজ রহস্যকে একই ফ্রেমে বাঁধার এমন প্রয়াস সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিরল।

টলিউড বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঋত্বিক চক্রবর্তীর শক্তিশালী অভিনয়ের দ্বৈরথ এবং সব্যসাচী চৌধুরী ও ইশা সাহার উপস্থিতি ছবিটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। স্টারমার্ক ক্রিয়েটিভ প্রোডাকশনের এই নতুন যাত্রা কেবল একটি চলচ্চিত্রের শুভ সূচনা নয়, বরং বাংলা অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে। শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে ছবির শুটিং। বড় পর্দায় ‘যাদুকর সত্যাচরণ’-এর এই জাদুকরী অ্যাডভেঞ্চার দেখার জন্য এখন মুখিয়ে রয়েছেন অনুরাগী ও সাধারণ দর্শকেরা।

