কলকাতা: সম্পর্কের টানাপোড়েন, অব্যক্ত অনুভূতির জটিল জাল এবং খাঁটি প্রেমের আবেগ—এই চিরন্তন রসদ নিয়ে বাংলা বিনোদন জগতে হাজির হতে চলেছে নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সে তো আজও বোঝেনা’। সম্প্রতি কলকাতার জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ‘সবকা ক্লাব’-এ (Sabka Club Kolkata) জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেল ছবিটির বহু প্রতীক্ষিত ট্রেলার। রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন পরিচালক রন রাজ। ট্রেলার লঞ্চের সন্ধ্যায় টলিপাড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, কলাকুশলী এবং বহুসংখ্যক গণমাধ্যম প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক জমকালো চলচ্চিত্র উৎসবে পরিণত হয়।
সম্পর্কের আলো-আঁধারির গল্পে ‘সে তো আজও বোঝেনা’

ছবির নাম ‘সে তো আজও বোঝেনা’ ঘোষণার পর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ট্রেলার লঞ্চের মঞ্চে প্রকাশিত পোস্টার ও ট্রেলারের টুকরো ঝলকে সেই কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পোস্টারের কেন্দ্রবিন্দুতে দেখা গেছে ট্র্যাডিশনাল বাঙালি কনের সাজে এক তরুণী এবং তাঁর পাশে চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবককে।
পোস্টারটিতে কনের মাথায় মুকুট, লাল বেনারসি শাড়ি, গাভরা গহনা এবং মুখে এক চাপা উৎকণ্ঠা ও বিষাদের ছায়া সুস্পষ্ট। অন্যদিকে যুবকের চেহারায় ফুটে উঠেছে অসহায়তা ও মানসিক দ্বন্দ্বের স্পষ্ট ছাপ। তাঁদের এই বিপরীতমুখী অভিব্যক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, গল্পটি নিছক একরৈখিক কোনো প্রেমের কাহিনি নয়; বরং এতে রয়েছে বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন, অতীতের কোনো গোপন সত্যি অথবা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, যা তাঁদের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্ককে বারবার প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

নেপথ্যের কারিগর ও সঙ্গীত ভাবনা
‘পাণ্ডে মোশন পিকচার্স’ (Pandey Motion Pictures)-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবির প্রযোজনা করেছেন মুকেশ কুমার পাণ্ডে। সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছে ‘লণ্ঠন ফিল্মস’ (Lantern Films) এবং উপস্থাপনায় ‘বজরং ফিল্মস’।
ছবির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হলো এর সঙ্গীত পরিচালনা। সুরের জাদুকর জিৎ গাঙ্গুলী (Jeet Gannguli) এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। বাংলা ছবির জগতে আবেগঘন এবং মেলোডিয়াস গান সৃষ্টির ক্ষেত্রে জিৎ গাঙ্গুলীর নাম দর্শকের কাছে অত্যন্ত ভরসার। ট্রেলারের নেপথ্যে ব্যবহৃত আবহ সঙ্গীত এবং গানের টুকরো সুর ইতিমধ্যেই দর্শকদের মনে আলাদা প্রভাব ফেলেছে।

পাশাপাশি, ছবিটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অভিজিৎ গুহ। বড় পর্দায় পারিবারিক গল্প ও মানবিক সম্পর্কের মেলবন্ধন ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ছবিটিকে বাড়তি ভরসা ও গভীরতা দেবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
তারকার মেলা ও ট্রেলার লঞ্চের বিশেষ মুহূর্ত

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সন্ধ্যায় কলকাতার ‘সবকা ক্লাব’-এর ব্যাঙ্কোয়েট প্রাঙ্গণ সেজে উঠেছিল রাজকীয় সাজে। নির্দিষ্ট সময়েই পরিচালক রন রাজ, প্রযোজক মুকেশ কুমার পাণ্ডে, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর অভিজিৎ গুহ এবং ছবির মূল চরিত্ররা মঞ্চে উপস্থিত হন। আনুষ্ঠানিক ট্রেলার প্রদর্শনের পরই প্রেক্ষাগৃহে করতালির ঝড় ওঠে।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সাথে আলাপচারিতায় পরিচালক রন রাজ জানান:
“আমরা প্রত্যেকেই এমন কিছু অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাই, যা প্রকাশ করা কঠিন। অনেক সময় প্রিয় মানুষকে ভালোবাসলেও সে তা বুঝতে পারে না, কিংবা পরিস্থিতির চাপে সেই অনুভূতি ঢাকা পড়ে যায়। ‘সে তো আজও বোঝেনা’ মূলত সেই অনুচ্চারিত ব্যথার কথা বলবে। ট্রেলারে দর্শক যে স্বাদ পেয়েছেন, পুরো ছবিতে তার চেয়েও অনেক বেশি আবেগ ও ড্রামা অপেক্ষা করছে।”

অনুষ্ঠানের কোঅর্ডিনেশন ও আরএসভিপির দায়িত্বে থাকা সাহেব হালদার জানান, ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানটি সফল করতে পুরো টিম দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করেছিল এবং দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পুরো ইউনিটকে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে।
দর্শক মহলে প্রত্যাশা ও মুক্তি
সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ট্রেলারটি প্রকাশের সাথে সাথেই নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে। বিশেষ করে কনের রহস্যময় লুক ও ট্রেলারের সিনেম্যাটোগ্রাফি আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গল্পে বর ও কনের রসায়ন কীভাবে বিকশিত হবে, এবং সম্পর্কের কোন অজানা মোড় তাঁদের পথকে বদলে দেবে—তা দেখতেই এখন মুখিয়ে রয়েছেন সিনেপ্রেমীরা।

প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই ছবির অফিসিয়াল গানগুলো একে একে বিভিন্ন অডিও-ভিডিও প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে। চলতি বছরের শেষের দিকেই রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, আবেগঘন গল্প এবং সুরেলা গানের হাত ধরে ‘সে তো আজও বোঝেনা’ টলিউডের বক্স অফিসে একটি স্মরণীয় পারিবারিক বিনোদনমূলক ছবি হয়ে ওঠার পূর্ণ সম্ভাবনা রাখছে।
