“হ্যাঁ ফাইনালি আমরা কাজ করছি একসাথে। আমি আর নন্দিতা দি সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী”।
প্রত্যেক মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে। সেগুলো খুব ছোটবেলা থেকে মনের মধ্যে নিঃশব্দে বাসা বেঁধে থাকে। আমার তেমনই একটা স্বপ্ন ছিল — কোনও একদিন মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করব।
বড় হয়েছি তাঁকে পর্দায় দেখে। অগ্নিপথ, ডিস্কো ডান্সার, দো আনজানে, ডান্স ডান্স — আরও কত ছবি! আবার বাংলা সিনেমায় তাঁর অসামান্য সব কাজ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, একজন অভিনেতার কোনও ভাষা হয় না, কোনও সীমানা হয় না। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর পর্দা জুড়ে থাকা — সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার কাছে শুধু একজন তারকা নন, এক অদ্ভুত বিস্ময়। আমার কাছে উনিই রামকৃষ্ণ, উনিই মৃগয়া, উনিই ডিস্কো ডান্সার।

সময়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে। দু’জনেই দু’জনকে পেশাগতভাবে চিনেছি, কথা হয়েছে। একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছেটাও ছিল বহুদিনের। কিন্তু কিছু কিছু অপেক্ষা বোধহয় ঠিক গল্পটার জন্যই থেকে যায়। যেদিন ওনার সাথে দেখা করে গল্পটা শোনালাম, বুকের ভিতর কোথাও সেই ছোটবেলার আমিটা বোধহয় তখনও চুপ করে বসেছিল। গল্প বলা শেষ হতেই মিঠুনদা হ্যান্ডশেক করে বললেন —
“ফাটিয়ে দিয়েছিস! এতো আমার জীবনের গল্প।”। তার আগে উনি যখন আমেরিকায়, আমি ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে একটা ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলাম। উনি শুনে কল ব্যাক করে বললেন — “শিবু! নিজেকে শিবপ্রসাদ বলে এত বড় ফিরিস্তি দিচ্ছিস কেন? বসে আছি তো কাজ করব বলে!”
কয়েকটা শব্দ কখনও কখনও অনেক বছরের স্বপ্নকে ছুঁয়ে যায়। সেই মুহূর্তটা আমার কাছে ঠিক তেমনই। আর কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তারপর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তব হবে। আজ সবকিছু ফাইনাল হলো। সবচেয়ে বড় কথা দাদা ভালো আছেন।
২০২৭ মিঠুন চক্রবর্তী ও উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউস।
২৫ বছর পূর্তির অন্যতম নিবেদন। আগামীবছর নন্দিতা দি ও আমার পরবর্তী সিনেমা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে।
