কলকাতা: কাশফুলের দোলা, আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর শিউলির গন্ধ জানান দিচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা সমাগত। উৎসবের এই মরশুমে প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ ক্রেতাদের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে কলকাতায় জমকালো সন্ধ্যার আয়োজন করল শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা ভিভো (vivo)। ৫ অক্টোবর ২০২৬, তিলোত্তমার অন্যতম জনপ্রিয় ঠিকানা ‘রুটস’ (Roots)-এ এক বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশে উন্মোচিত হলো ভিভোর দুটি বহু প্রতীক্ষিত ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম ডিভাইস—ভিভো ভি৮০ (vivo V80) এবং ফোল্ডেবল ফ্ল্যাগশিপ ভিভো এক্স ফোল্ড৬ (vivo X Fold6)।
একই মঞ্চে উন্মোচিত হয়েছে এসভিএফ ব্র্যান্ডস (SVF Brands)-এর প্রযোজনায় নির্মিত ভিভোর বিশেষ পুজোর ডিজিটাল ভিডিও কমার্শিয়াল (DVC) এবং মধ্যবিত্তের নাগালে সেরা প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত হয়েছে বহু চর্চিত ‘১০১ টাকার পুজো অফার’।
প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং বিনোদনের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই বিশেষ সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একঝাঁক তারকা, খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বাংলার প্রায় ৮০ জন বিশিষ্ট ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পুজো আবেগের এই বিরল যুগলবন্দি শহরের প্রযুক্তি বাজারে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

১. ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সেতু: এসভিএফ প্রযোজিত বিশেষ পুজো ডিভিসি
উৎসবের মরশুমে বাঙালির ঘরের গল্প বলতে ভিভো এবার হাত মিলিয়েছে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ ব্র্যান্ডস-এর সঙ্গে। উন্মোচিত শর্ট ফিল্ম বা ডিভিসি-টি নিছক কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে পুজোর দিনের শিকড় ছোঁয়া সম্পর্ক, মান-অভিমান, একান্নবর্তী পরিবারের উষ্ণতা এবং ফিরে আসার এক দলিল।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন টলিউডের প্রথিতযশা শিল্পীরা:
* কৌশিক সেন: পরিবারের অভিভাবক ও ঐতিহ্যের ধারক রূপে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি।
* অঞ্জনা বসু: মমতাময়ী রূপ ও উৎসবের গৃহকোণকে আগলে রাখার চিরচেনা বাঙালি মেজাজ।
* সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়: নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, যার চোখে উৎসবের উন্মাদনা ও ডিজিটাল সংযোগের নতুন সংজ্ঞা।
* অনসূয়া মজুমদার: পরিবারের প্রবীণতম সদস্য হিসেবে যাঁর স্নেহ ও স্মৃতিমেদুরতা পুরো আখ্যানটিকে একটি গভীর আবেগের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই আবেগঘন দৃশ্যকাব্যের সুরে প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অন্তরা নন্দী। অন্তরার কণ্ঠে গাওয়া উৎসবের বিশেষ গানটি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ডিভিসির আনুষ্ঠানিক পর্দা উন্মোচন করেন অভিনেতা কৌশিক সেন এবং সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে কৌশিক সেন জানান, “পুজো মানেই ঘরে ফেরা, সম্পর্কের পুনর্মিলন। প্রযুক্তি যখন মানুষকে একে অপরের কাছে টেনে আনে, দূরকে নিকট করে তোলে, তখন তা উৎসবের মূল সুরের সঙ্গেই মিলে যায়। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে সেই সত্যটিই খুব সংবেদনশীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।” সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ করেন, “নতুন প্রজন্ম কীভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমকে জুড়ছে এবং স্মৃতিগুলো যত্ন করে বন্দি করে রাখছে, তা এই কাজটিতে দারুণভাবে প্রতিফলিত।”

২. প্রযুক্তি ও ক্যামেরার মেলবন্ধন: ভিভো ভি৮০ (vivo V80)
উৎসবের দিনগুলোতে ছবি তোলা ও মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করা এখন পুজো পরিক্রমার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আলোকচিত্রপ্রেমী ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আনা হয়েছে vivo V80।
ভিভো ভি-সিরিজ বরাবরই তার স্লিম ডিজাইন এবং পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য সমাদৃত। V80 সেই উত্তরাধিকারকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে গেছে।
ক্যামেরা আর্কিটেকচার ও জাইস (ZEISS) কো-ইঞ্জিনিয়ারিং
* ZEISS অপটিক্স: বিশ্বখ্যাত লেন্স প্রস্তুতকারক সংস্থা জাইস-এর সাথে যৌথভাবে তৈরি উন্নত লেন্স সেটআপ, যা রাতের আলোয় বা মণ্ডপের অতিরিক্ত আলোকচ্ছটায় কোনো ধরনের লেন্স ফ্লেয়ার (Flare) ছাড়াই নিখুঁত ছবি তুলতে সক্ষম।
* নাইট পোর্ট্রেট মোড: পুজোর রাতের ঠাকুর দেখা, আলোর রোশনাই এবং বন্ধুদের আড্ডাকে স্পষ্ট ও নিখুঁত কালার টোনে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম এর বিশেষ এআই-চালিত সেন্সর।
* সিনেমাটিক ভিডিওগ্রাফি: ৪K রেজোলিউশনে প্রো-গ্রেড স্ট্যাবিলাইজেশন সহ ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা, যা ভ্লগার এবং রিলস নির্মাতাদের বাড়তি কোনো গিম্বল ছাড়াই মসৃণ ভিডিও তৈরির সুযোগ দেয়।
ডিজাইন ও পারফরম্যান্স
হালকা, মসৃণ এবং প্রিমিয়াম মেটালিক ও গ্লাস ফিনিশে তৈরি এই ডিভাইসটি তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন স্টেটমেন্টের সঙ্গে অনায়াসেই মানিয়ে যায়। এর উচ্চ রিফ্রেশ রেটের উজ্জ্বল অ্যামোলেড ডিসপ্লে কড়া রোদেও পরিষ্কার দৃশ্যমানতা বজায় রাখে। সেই সঙ্গে উন্নত ব্যাটারি ব্যাকআপ ও দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি নিশ্চিত করে যে প্যান্ডেল হপিংয়ের পুরো সময় ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়ার চিন্তা থাকবে না।
৩. প্রিমিয়াম প্রযুক্তির শীর্ষবিন্দু: ভিভো এক্স ফোল্ড৬ (vivo X Fold6)
কলকাতার বাজারে এদিনের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল ভিভোর আল্ট্রা-প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল ফ্ল্যাগশিপ vivo X Fold6। ফোল্ডেবল ডিভাইসের বাজারে নিজেদের আধিপত্য মজবুত করতে এই ফোনে অত্যাধুনিক মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শীর্ষস্থানীয় হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।
+————————————————————————-+
| vivo X Fold6: প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য |
+————————————————————————-+
| আর্কিটেকচার | কার্বন-ফাইবার হিং (Hinge), অত্যন্ত পাতলা ও হালকা গঠন |
| ডিসপ্লে | অভ্যন্তরীণ বড় ফোল্ডেবল স্ক্রিন + বাইরের সুবিধাজনক ডিসপ্লে|
| পারফরম্যান্স | ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর, উন্নত মাল্টিটাস্কিং ও স্প্লিট-স্ক্রিন|
| অপটিক্স | ফ্ল্যাগশিপ লেভেল টেলিফটো ও আল্ট্রা-ওয়াইড জাইস ক্যামেরা |
| স্থায়ীত্ব | উন্নত ক্রিজ কন্ট্রোল ও দীর্ঘস্থায়ী ফোল্ডিং স্থায়িত্ব |
+————————————————————————-+
এই ফোল্ডেবল ডিভাইসটি মূলত তাঁদের জন্য তৈরি, যাঁরা একই সঙ্গে ট্যাবলেটের মতো বড় স্ক্রিনের উৎপাদনশীলতা এবং পকেট-সাইজ স্মার্টফোনের স্বাচ্ছন্দ্য চান। পেশাদার কাজকর্ম, হাই-এন্ড গেমিং এবং সিনেমাটিক কনটেন্ট দেখার জন্য এই ফোনটি বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

৪. উৎসবের চমক: ‘১০১ টাকার পুজো অফার’
পুজো মানেই নতুন জামা, নতুন গ্যাজেট কেনাকাটার মরশুম। কিন্তু প্রিমিয়াম প্রযুক্তির দাম অনেক সময়েই সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের বাইরে চলে যায়। উৎসবের এই দিনগুলোতে সেই ব্যবধান ঘোচাতে ভিভো ঘোষণা করেছে তাদের চমকপ্রদ ₹১০১ কনজিউমার স্কিম।
এই অফারের আওতায়:
* মাত্র ১০১ টাকা প্রারম্ভিক ডাউনপেমেন্টে ক্রেতারা তাঁদের পছন্দের ভিভো স্মার্টফোনটি বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।
* থাকছে সহজ মাসিক কিস্তি (EMI) সুবিধা এবং শূন্য প্রক্রিয়াকরণ ফি-র বিকল্প।
* বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কার্ড ও রিটেল পার্টনারদের মাধ্যমে নিশ্চিত ক্যাশব্যাক, এক্সচেঞ্জ বোনাস এবং বিশেষ উৎসব উপহার।
পশ্চিমবঙ্গের সকল অনুমোদিত রিটেল আউটলেট ও স্টোরে এই স্কিম কার্যকর হয়েছে, যার ফলে উৎসবের মরশুমে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনার পথ সুগম হবে।
৫. চাঁদের হাট: তারকা ও ক্রিয়েটরদের রঙিন উপস্থিতি
‘রুটস’-এর লঞ্চ ইভেন্টটি কেবল টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশনের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী ছিল না; এটি পরিণত হয়েছিল বিনোদন ও ফ্যাশন জগতের মহা-সম্মেলনে।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন:
* রোহন ভট্টাচার্য (অভিনেতা)
* দর্শনা বণিক (অভিনেত্রী ও মডেল)
* রুকমা রায় (অভিনেত্রী)
* তিয়াশা লেপচা (অভিনেত্রী)

তারকাদের পাশাপাশি গোটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত প্রায় ৮০ জন প্রথম সারির ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থলেই একটি বিশেষ ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’ গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা V80 ও X Fold6 ফোন দুটি ব্যবহারের সরাসরি সুযোগ পান।
কম আলোয় ফোনের পোর্ট্রেট মোডের কার্যকারিতা, ফোল্ডেবল ফোনের হিং মেকানিজম এবং নান্দনিক ডিজাইন পরীক্ষা করে দেখেন ক্রিয়েটররা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই সব অভিজ্ঞতা, সেলফি ও রিলস ছড়িয়ে পড়ে ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও ফেসবুকের ডিজিটাল দেয়ালে।
পুজো অভিযানে ভিভোর কৌশলগত অবস্থান
পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই ভিভোর জন্য অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মরশুম। এই সময় রিটেল বিক্রি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

ভিভো এই সময়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বেছে নিয়েছে। তাদের এই অভিযানের তিনটি মূল স্তম্ভ পরিষ্কার:
* আঞ্চলিক সংযোগ: এসভিএফ এবং স্থানীয় জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে ডিভিসি তৈরি করে মাটির টান ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকে ছোঁয়া।
* প্রোডাক্ট ডায়ভার্সিফিকেশন: মধ্য-প্রিমিয়াম রেঞ্জে ছবি তোলার সেরা হাতিয়ার হিসেবে V80 এবং সুপার-প্রিমিয়াম টেক-লাক্সারি সেগমেন্টে X Fold6 নিয়ে আসা।
* আর্থিক সুরাহা: ১০১ টাকার মতো আক্রমণাত্মক অফার এনে সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাধা দূর করা।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—বিশেষ করে ইউটিউব এবং ভিভোর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিতে এই পুজো ক্যাম্পেইন ও ডিভিসি ব্যাপকভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে।
এক জমকালো ডিনার, সঙ্গীত ও নেটওয়ার্কিং পর্বের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে উৎসবের এই স্মরণীয় সন্ধ্যার। আধুনিক গ্যাজেটের চমক, তারকাদের দ্যুতি এবং মাটির সংস্কৃতির স্পর্শে ভিভোর এই সূচনা স্পষ্ট বার্তা দিল—বাঙালির এবারের দুর্গাপূজায় প্রযুক্তির রঙে নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে।
