কলকাতা, ৩০ জুন, ২০২৬: আধুনিক চিকিৎসার নতুন দিগন্তকে সামনে রেখে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আজ আয়োজন করল একটি বিশেষ রোবোটিক সিমুলেশন ওয়ার্কশপ । চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষাক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীরা রোবোটিক-সহায়ক অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা কাছ থেকে জানার সুযোগ পান। “The Future is Here – with Robotic Surgery at Manipal Hospitals” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেখানো হয়, কীভাবে আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তি সার্জনদের আরও নিখুঁতভাবে জটিল অস্ত্রোপচার করতে সাহায্য করছে এবং বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর মণিপাল হসপিটাল ইস্ট। এরপর প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর (ডা.) দিলীপ কুমার প্রতিহার, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, আইআইটি খড়্গপুর এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর (ডা.) সুশ্মিতা মিত্র।
রোবোটিক প্রযুক্তির চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ডা. কুনাল সরকার, ডিরেক্টর – কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটাল, মুকুন্দপুর ক্লাস্টার, হৃদরোগ, বক্ষরোগ ও জেনারেল সার্জারিতে রোবোটিক সার্জারির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর – মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার, মণিপাল হসপিটাল – মুকুন্দপুর, সল্ট লেক ও শিলিগুড়ি ক্লাস্টার, ক্যানসার অস্ত্রোপচারে রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও অর্থোপেডিক্স নিয়ে ডা. বিকাশ কাপুর, ইউরোলজি ও ইউরো-অঙ্কোলজি নিয়ে ডা. অভয় কুমার এবং গাইনোকোলজি নিয়ে ডা. অরুণাভ রায় তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

এই অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল সল্ট লেক ক্লাস্টার এর নতুন রোবোটিক সার্জনদের দলকেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এই দলে রয়েছেন ডা. দেবকুমার রায়, ডা. অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায়, ডা. অভিষেক ভৌমিক, ডা. পলি চট্টোপাধ্যায়, ডা. অরিজিৎ সিংহ মহাপাত্র এবং ডা. সুজয় চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে রোবোটিক-সহায়ক অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন।
নিজের বক্তব্যে প্রফেসর (ডা.) দিলীপ কুমার প্রতিহার বলেন, “রোবোটিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি, কীভাবে ভেলিস, দা ভিঞ্চি এক্সআই, রোসা এবং ম্যাকো -এর মতো রোবোটিক সিস্টেম বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারে আরও নিখুঁতভাবে কাজ করতে সাহায্য করছে। চিকিৎসা ও প্রযুক্তির এই মিল ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ, কম কষ্টের এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”
প্রফেসর (ডা.) সুশ্মিতা মিত্র বলেন, “চিকিৎসা এবং প্রযুক্তির একসঙ্গে কাজ করার মধ্যেই ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিষেবা লুকিয়ে আছে। এআই এবং রোবোটিক্স চিকিৎসকদের জায়গা নেবে না, বরং তাঁদের আরও নিখুঁতভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে, যাতে রোগীরা আরও ভালো চিকিৎসা ও দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ পান। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সবসময় মানবিকতা, নৈতিকতা এবং চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিবিদদের এক মঞ্চে এনে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি মণিপাল হসপিটালসকে অভিনন্দন জানাই।”

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রোবোটিক সিমুলেশন ল্যাব, যার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি। সেখানে উপস্থিত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারীরা ম্যাকো, ভেলিস, রোসা এবং দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেমগুলি কাছ থেকে দেখেন। অর্থোপেডিক্সে ম্যাকো (স্ট্রাইকার), ভেলিস (ডিপুই সিন্থেস) এবং রোসা (জিমার বায়োমেট) প্রযুক্তি জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচারকে আরও নিখুঁত ও রোগীভিত্তিক করতে সাহায্য করছে। অন্যদিকে দা ভিঞ্চি এক্সআই বিভিন্ন বিভাগের মিনিমালি ইনভেসিভ অস্ত্রোপচারে সার্জনদের আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে। এই প্রদর্শনীতে দেখানো হয়, কীভাবে রোবোটিক প্রযুক্তি চিকিৎসাকে আরও নিখুঁত, কার্যকর এবং রোগীকেন্দ্রিক করে তুলছে।
ক্যানসারের অস্ত্রোপচারে রোবোটিক প্রযুক্তির গুরুত্ব নিয়ে ডা. সৌরভ দত্ত বলেন, “রোবোটিক প্রযুক্তি ক্যানসারের জটিল অস্ত্রোপচারকে আরও নিখুঁত ও নিরাপদ করে তুলছে। শরীরের এমন অংশেও সহজে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে আগে তা কঠিন ছিল। এর ফলে রক্তক্ষরণ কম হয়, অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা কম থাকে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে আমরা ক্যানসার রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

অর্থোপেডিক্সে রোবোটিক প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে ডা. বিকাশ কাপুর বলেন, “রোবোটিক-সহায়ক অর্থোপেডিক সার্জারির ফলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে রোগীরা কম ব্যথা অনুভব করেন, দ্রুত হাঁটাচলা শুরু করতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পান। গত দুই বছরে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস -এ ১,৫০০-রও বেশি রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করেছি। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা রোগীদের জন্য কতটা উপকারী।”

গাইনোকোলজিক্যাল অস্ত্রোপচারে রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ডা. অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রোবোটিক-সহায়ক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জটিল গাইনোকোলজিক্যাল অপারেশন আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সার্জনরা আরও ভালোভাবে দেখতে এবং নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতির কারণে অস্ত্রোপচারের কষ্ট কম হয়, রোগীরা দ্রুত সুস্থ হন এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।”
এই ওয়ার্কশপে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং হাতে-কলমে সিমুলেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা রোবোটিক সার্জারির আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস আবারও জানিয়ে দিল, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নিখুঁত ও উন্নত অস্ত্রোপচারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

