কলকাতা: “যেখানে মন শান্তি পায়, সেখানেই সুস্থ হয়ে ওঠার পথ আরও সহজ”—এই বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় পেশাদার ও নির্ভরযোগ্য গৃহভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে হেলথ প্লাস। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর রোগী ও পরিবারের যে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা-সহায়তার প্রয়োজন হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান পূরণের লক্ষ্যেই যাত্রা শুরু করে।
হেলথ প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা দেবাশিস রায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক দক্ষ পেশাদার। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করার পাশাপাশি তিনি অ্যাপোলো হাসপাতাল, ফোর্টিস হাসপাতাল, নারায়ণা হেলথ, এএমআরআই এবং কেয়ার হাসপাতাল-এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন, হাসপাতাল থেকে রোগী বাড়ি ফেরার পর পরিবারের সামনে কতটা কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা করা, প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব এবং একইসঙ্গে রোগীর মানসিক ও শারীরিক যত্ন—সবকিছু সামলাতে গিয়ে পরিবারগুলিকে প্রায়ই প্রবল চাপের মধ্যে পড়তে হয়। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই পেশাদারিত্ব, সহমর্মিতা এবং চিকিৎসাগত শৃঙ্খলার সমন্বয়ে হেলথ প্লাসের পথচলা শুরু।

আজ হেলথ প্লাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন পঞ্চাশেরও বেশি প্রশিক্ষিত পেশাদার। সংস্থাটিকে দিশা দেখাচ্ছে কলকাতার স্বাস্থ্যক্ষেত্রের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গঠিত একটি পরামর্শদাতা পরিষদ। দেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই নেতৃত্বের হাত ধরে হেলথ প্লাস বাড়িতে এমন একটি পরিষেবা পৌঁছে দিতে চায়, যার মান, নিরাপত্তা, যত্ন ও মর্যাদা সর্বোচ্চ হাসপাতাল-মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রোগী ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী হেলথ প্লাসের পরিষেবার পরিধিও যথেষ্ট বিস্তৃত। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর পুনরুদ্ধার পর্বের পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাড়িতে নিবিড় পরিচর্যার পরিকাঠামো তৈরি—সবই এই পরিষেবার আওতায় রয়েছে। বাড়িতে চিকিৎসকের পরামর্শ, টেলি-কনসালটেশন, ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসন সহায়তা এবং ডায়াগনস্টিক পরিষেবার পাশাপাশি রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, আইসিইউ-সমমানের পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর পরিষেবা।
বিশেষ করে জটিল ও গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়িতেই উপযুক্ত চিকিৎসা-পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হেলথ প্লাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং রোগী এবং তাঁর পরিবারের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শান্তিও বজায় থাকে।
নিজেদের পথচলা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা দেবাশিস রায় বলেন,
“সাফল্য শুধু সংখ্যায় মাপা যায় না; সাফল্য হল মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি পরিবারকে স্বস্তি দিতে পারা। বাড়িতে আইসিইউ-পরিকাঠামো তৈরি করা থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বোত্তম প্রোটোকল ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে জটিল রোগীদের পরিচর্যা—প্রতিদিন আমরা যে সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প এবং কৃতজ্ঞতার অনুভূতি দেখি, সেগুলিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

হেলথ প্লাসের কাজের ভিত্তি চারটি মূল মূল্যবোধ—সহমর্মিতা, সততা, সম্মান এবং বিশ্বাসযোগ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অটুট অঙ্গীকার। রোগীকে শুধুমাত্র একজন চিকিৎসাপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন মানুষ এবং তাঁর পরিবারকে একটি সম্পূর্ণ সত্তা হিসেবে দেখাই এই সংস্থার পরিষেবা-দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কলকাতা ও আশপাশে গৃহভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা ক্রমশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হেলথ প্লাসও তার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী দিনে দ্বিতীয় সারির শহরগুলিতে পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার। এর মাধ্যমে কলকাতার বাইরেও আরও বেশি পরিবার যেন প্রয়োজনের সময় প্রশিক্ষিত পেশাদারদের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে হেলথ প্লাস।
হাসপাতালের চিকিৎসার পর রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রাপথ যে হাসপাতালের দরজা পেরিয়েই শেষ হয়ে যায় না—বরং বাড়ির পরিচিত পরিবেশেই অনেক সময় শুরু হয় প্রকৃত পুনরুদ্ধারের অধ্যায়—এই উপলব্ধিকেই সামনে রেখে হেলথ প্লাস গড়ে তুলছে গৃহভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার এক মানবিক, পেশাদার এবং আস্থাশীল মডেল।
