WhatsApp Image 2026-10-28 at 8.09.37 PM
Spread the love

মাইগ্রেন এমন একটি সমস্যা, যার বৈশিষ্ট্য হল বারবার তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, আলো সহ্য করতে না পারা এবং শ্রবণ, ভারসাম্য ও স্থানিক অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে অসুবিধা। এই উপসর্গগুলি দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। তবে, কিছু ধরনের মাইগ্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিতও দিতে পারে। এই সম্পর্কটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, যাঁদের অরা-সহ মাইগ্রেন (মাথাব্যথার আগে বা সঙ্গে সাময়িক দৃষ্টিগত বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেওয়া) হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বা আকস্মিক উপসর্গগুলি শনাক্ত করা জরুরি।
এই উপসর্গগুলির মধ্যে থাকতে পারে চোখের সামনে আলোর ঝলকানি দেখা, দৃষ্টিক্ষেত্রে অন্ধকার দাগ দেখা, ঝিনঝিন করা, অসাড়তা অথবা কথা বলতে অসুবিধা।
স্ট্রোকের ক্রমবর্ধমান বোঝা
ভারতে স্ট্রোক একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যগত সমস্যা। Scientific Reports-এ ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায়, গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ (Global Burden of Disease) সমীক্ষার অনুমানের ভিত্তিতে জানানো হয় যে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের ঘটনা ১৯৯০ সালে ১০৫ থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ১৪৮ হয়েছে।


স্ট্রোকের সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্ক
গবেষণা থেকে জানা যায়, যাঁদের অরা-সহ মাইগ্রেন হয়, তাঁদের ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্তপ্রবাহ রক্ত জমাট বেঁধে বাধাপ্রাপ্ত হলে এই ধরনের স্ট্রোক হয়। তবে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সামগ্রিকভাবে কম থাকে। মাইগ্রেন থাকলেই যে স্ট্রোক হবে, এমনটা নয়।
যেসব মহিলা অরা-সহ মাইগ্রেনে ভোগেন এবং একই সঙ্গে ইস্ট্রোজেনযুক্ত কম্বাইন্ড হরমোনাল কনট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। American Journal of Obstetrics & Gynecology-এ ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ১৫–৪৯ বছর বয়সি যেসব মহিলার এই দুটি ঝুঁকির কারণই ছিল, তাঁদের ইস্কেমিক স্ট্রোকের সম্ভাবনা এই দুটি ঝুঁকির কোনওটিই নেই এমন মহিলাদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ ছিল।
যে ঝুঁকির কারণগুলি উপেক্ষা করা উচিত নয়
ধূমপান এবং উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ, যেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অরা-সহ মাইগ্রেনে আক্রান্ত মহিলাদের জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষত, তাঁরা যদি ধূমপান করেন বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাহলে এই পরামর্শ আরও গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্রোকের সতর্কতামূলক লক্ষণগুলি চিনুন
হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা বলতে অসুবিধা কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া—এই উপসর্গগুলি স্ট্রোকের ইঙ্গিত হতে পারে। এগুলিকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। উপসর্গগুলি কিছুক্ষণ পর সেরে গেলেও, ভবিষ্যতে আবার স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এটি স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে।
সচেতনতাই পারে পার্থক্য গড়ে দিতে
মাইগ্রেনের ধরন ও উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, সব ধরনের তামাক পরিহার করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, এইসব পদক্ষেপ স্ট্রোকের নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলি মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন বা আকস্মিক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে সেগুলিকে সব সময় মাইগ্রেন বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এগুলি প্রাণঘাতী জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে।