RAJ_9105
Spread the love

কলকাতা, ২৭ জুলাই, ২০২৬: অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এজেন্টিক এআই-চালিত সিআরএম প্ল্যাটফর্ম সেলসফোর্সের সঙ্গে একটি কৌশলগত সহযোগিতার ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সেলসফোর্স অ্যাকাডেমিয়া সেন্টার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এই সহযোগিতা অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা এবং আধুনিক এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সক্ষম ও শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই সহযোগিতার ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই সেলসফোর্সের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি—Agentforce, Agentforce 360 Platform, Tableau এবং Data 360—ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। এই প্রযুক্তিগুলি কে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত করে অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের এআই-চালিত অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, এন্টারপ্রাইজ কর্মপ্রবাহ ডিজাইন ও পরিচালনা, অ্যানালিটিক্স ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলি তে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করে কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবেন।

এই প্রযুক্তিগুলি কে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে, যার মাধ্যমে তারা এআই-চালিত অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, এন্টারপ্রাইজ ওয়ার্কফ্লো উন্নয়ন, অ্যানালিটিক্স ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত একই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে সক্ষম হবে।

এই সহযোগিতা একটি ডিজিটালি সক্ষম এবং এআই-ফার্স্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, এন্টারপ্রাইজ এআই, ডেটা, অ্যানালিটিক্স, অটোমেশন এবং কাস্টমার টেকনোলজি তে দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের ক্রমবর্ধমান শিল্প-চাহিদা পূরণে ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ও সেলসফোর্সের ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট এবং ট্রেন-দ্য-ট্রেনার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যাতে উদীয়মান প্রযুক্তি ও শিল্প ক্ষেত্রের সর্বোত্তম অনুশীলন (Best Practices) পাঠদানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়।

সেলসফোর্সের অ্যাকাডেমিয়া সেন্টার অব এক্সিলেন্স কাঠামোর ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের পাঠদানকে বাস্তব শিল্প-অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রফেশনাল ইলেকটিভ, মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল প্রোগ্রাম, ভ্যালু-অ্যাডেড কোর্স, হাতে-কলমে প্রকল্প, হ্যাকাথন এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের মেন্টর শিপের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ কে কার্যত একটি লাইভ ইন্ডাস্ট্রি ল্যাব-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা Trailhead প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সেলসফোর্স সার্টিফিকেশন অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে এবং সেলসফোর্স ইকোসিস্টেমের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন পেশার জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।

প্রতিক্রিয়া:

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য সেলসফোর্সের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও বলেন, “এআই-এর যুগ শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতির মাধ্যমে নয়, বরং সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা কতটা দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারছি, তার ওপর ও নির্ভর করবে। এআই যখন প্রতিটি শিল্পক্ষেত্র কে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে শুধু জ্ঞান প্রদান নয়, বরং এমন সমস্যা-সমাধানকারী তৈরি করার এক অনন্য সুযোগ রয়েছে, যারা এআই, ডেটা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে আমাদের এই সহযোগিতা ভারতে এআই-দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সেলসফোর্সের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের-ই প্রতিফলন। শিল্পের চাহিদা ভিত্তিক শিক্ষা, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করছি না, বরং এমন উদ্ভাবক ও নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলছি, যারা ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

প্রফেসর (ড.) সমিত রায়, চ্যান্সেলর অধ্যাপক অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি, বলেন, “অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি তে আমাদের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের বর্তমান কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলা। সেলসফোর্সের সঙ্গে এই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ একাডেমিয়া ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে ব্যবধান দূর করার প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এআই-চালিত প্রযুক্তি এবং সেলসফোর্স ইকোসিস্টেমে হাতে-কলমে ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ পাবে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সেলসফোর্স সার্টিফিকেশনের সঙ্গে সমন্বিত এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যা ডিজিটাল অর্থনীতিতে সফল হওয়ার জন্য অপরিহার্য। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে এবং ব্যবসা ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সেলসফোর্সের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *